ট্রাইপোফোবিয়া (Trypophobia) কেন হয়? এর প্রতিকার কী?
মূল উত্তরে যাওয়ার আগে চলুন কিছু ছবি দেখে নেওয়া যাক।
উপরের ছবিগুলো দেখে যদি আপনার অন্যরকম কিছু মনে না হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ছবিগুলোর কোন একটি বা সবগুলো দেখার পর যদি-
- নাক সিটকান বা অস্বস্তি অনুভব করে
- শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়
- শরীরে চুলকানির মতো মনে হয়
- বমি বমি লাগে
- আতঙ্কিত হয়ে পড়েন
- ঘামতে থাকেন
- মনে হয় যেন শরীরের উপর দিয়ে একটা পিঁপড়া হেঁটে গেল
- শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়
তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার একধরনের ফোবিয়া আছে যার নাম ট্রাইপোফোবিয়া। এটি এমন এক ধরনের ফোবিয়া যেখানে পাশাপাশি থাকা অনেকগুলো ছোটছোট গর্ত বা একই প্যাটার্নের অনেকগুলো পুনরাবৃত্তি দেখে আপনি ভয় পেয়ে যান বা অস্বস্তি অনুভব করেন।
কেন এমনটা হয়?
২০১৩ সালের একটা গবেষণাপত্র অনুযায়ী মনে করা হয়, কোন একটা ক্ষতিকর প্রাণি থেকে সুরক্ষার তাগিদেই মানুষ এধরনের ভয় পেয়ে থাকে। বুঝলেন না তো?
আচ্ছা, চলুন আরো কয়েকটি ছবি দেখি।
উপরের প্রাণীগুলো যথেষ্ট বিষাক্ত। বেশির ভাগ সাপ বিষাক্ত না হলেও কিছু সাপ আছে ভয়ঙ্কর বিষাক্ত। তাছাড়া সাপ বিষাক্ত হোক বা না হোক অনেকেই একে দেখে মারাত্মক ভয় পায়।
এসব প্রাণী ভীতি মনের মধ্যে বেশ গেঁথে থাকে। এরপর মানুষ যখন আগের ছবিগুলোতে দেখানো প্যাটার্নগুলো আশেপাশে কোথাও দেখে তখন তার মনের মধ্যে ভয় পাওয়া প্রাণিগুলোর অবয়ব তৈরি হয় এবং সে ভয় পেয়ে যায়।
এধরনের সমস্যাতে থাকা সবাই কিন্তু প্যাটার্নগুলো দেখে ভয় পায় না, অস্বস্তি অনুভব করে সামান্য বা ঘৃণাবোধ হয়। সেজন্য ট্রাইপোফোবিয়াকে ফোবিয়া না বলে 'বিরক্তিকর' বলেও ধরে নেয়া হয়।
সমস্যার প্রতিকার
ট্রাইপোফোবিয়া নতুন আবিষ্কৃত একটি সমস্যা, তাই এটা নিয়ে খুব বিস্তর গবেষণা নেই।
নিজে থেকেই ভয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্যান্য ফোবিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতোই মানসিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির সামনে প্যাটার্ন গুলো উপস্থাপন করে তাকে বোঝানো যে, এতে কোন ক্ষতিকর কিছু নেই।
- অনেকক্ষেত্রে একসাথে অনেকজন মিলে আলাপ আলোচনা, দেখার অভ্যাস করার মাধ্যমেও নিজেরা নিজেদেরই চিকিৎসা করা যায়।













একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন