চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন কেন অনন্য?


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র শাটল ট্রেন যা শুধুমাত্র কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চলাচল করে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শাটল ট্রেন ছিলো যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার নিজস্ব শাটল ট্রেন আছে।

শাটল ট্রেনঃ মূলত অল্প দূরত্বে চলাচলকারী এবং কোন নির্দিষ্ট এলাকাকে সংযুক্ত কারী ট্রেনকে শাটল ট্রেন বলে। শাটল ট্রেন বিশ্বের অনেক জায়গায় আছে। বিশ্বের বেশিরভাগ বড় শহরগুলোতেই কমিউটার বা শাটল সার্ভিস চালু আছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন কেন অনন্য?

কারণ বিশ্বের একমাত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর হতে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে অবস্থিত। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় ১৯৮৪ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়।

নিয়মিত শিডিউল অনুসারে দুইটি শাটল ট্রেন নিয়মিত চট্টগ্রাম রেলস্টেশন হতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলা যেতে পারে এই শাটল ট্রেনকে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন হতে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পৌছাতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা ট্রেনের বগিতেই বিট বাজিয়ে গান গায়, যার কারণে এই ১ ঘন্টা সময় কখন কেটে যাবে সেটা আপনি কখনই টের পাবেন না নিশ্চিতভাবে। এখানে গান গেয়ে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, এস আই টূটুলের মতো শিল্পীরা।

শাটল ট্রেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ কারণ এই ট্রেন পৌছাতে কোন কারণে দেরি হলে ক্লাস/ পরীক্ষাও সেই অনুসারেই দেরিতে শুরু হয়। আর কোন কারণে ট্রেন পৌছাতে না পারলে বা কোন কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সেদিন ক্লাস পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় না। যদিও দুর্ঘটনা খুব কমই ঘটে। তবে লাইনের অনেকদিন সংস্কার না হওয়াতে শাটল ট্রেন হেলেদুলে ধীর গতিতে চলতে থাকে।

শাটল ট্রেনে গানের অনেকগুলো দল ছিলো যার নামগুলোও বিচিত্র। যেমনঃ খাইট্টা খা, একাকার, 69, বিজয়, ককপিট ইত্যাদি। মূলত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন উপগ্রুপ এই দলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ২০১৬ সালে এইসব গ্রুপ বিলুপ্ত করা হয়। তবে শাটল ট্রেনের গানের সংস্কৃতি এখনো আছে।

এই গ্রুপ থাকাকালীন প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে শাটল ট্রেনের বগি (কোচ) গুলো বিভিন্ন আলপনায় রাঙানো হতো।



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের অন্যতম আবেগের জায়গা এ শাটল ট্রেন। অনেক সুখ, দুঃখের অনুভুতিতে মিশে আছে এই শাটল ট্রেন।

শীতের সময়ে কুয়াশা ভেদ করে শাটল ট্রেন যখন ক্যাম্পাসের দিকে এগিয়ে চলে তখন হ্যারি পটারের মতো হগওয়ার্ট এক্সপ্রেসে ভ্রমণের অনুভূতি নিতে পারেন আপনিও।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন